Model
Video-026
আব্দুল মুসরেফ খাঁনের সহযোগিতায় বিঞ্জান প্রদর্শন মডেল দ্বাদশ শ্রেনী পযর্ন্ত বিঞ্জান শাখায় পাঠরত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য।। এই মডেল আপনি হাতে তৈরী করতে পারবেন।। তবে ইলেকট্রিক ব্যবহারে সাবধান অবলম্বন করবেন।। কোনো কিছু তে আবেগ নয় ধর্য সহকারে করুন হইতো আমার ডেমো দেখে আরো উন্নত মডেল তৈরী করতে পারবেন।।
আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।
তোমাদের সাফল্য কামনা করি।
ভবিষ্যতের ভারত গঠনের কারিগর তোমরা !
অবশ্যই আমাকে ফ্লো করতে ভুলবেন না !
ধন্যবাদ
আব্দুল মুসরেফ খাঁন
মডের বিষয় : ক্ষুদ্র বাষ্পচালিত ইঞ্জিন
(Miniature Steam Engine)
এই ভিডিওতে আমরা একটি ক্ষুদ্র বাষ্পচালিত ইঞ্জিন
(Miniature Steam Engine) দেখতে পাচ্ছি যা তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে এবং পরবর্তীতে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করছে। এটি মূলত তাপগতিবিদ্যার
(Thermodynamics) সাধারণ সূত্র মেনে কাজ করে।
নিচে এটি তৈরির প্রক্রিয়া এবং এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সহজভাবে দেওয়া হলো:
এটি তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ
- একটি টিনের ক্যান (যাকে বয়লার হিসেবে ব্যবহার করা হবে)।
- একটি ছোট ফ্যান বা টারবাইন (টিনের পাত কেটে তৈরি করা যায়)।
- একটি ছোট ডিসি মোটর (যা এখানে জেনারেটর হিসেবে কাজ করবে)।
- দুটি ছোট প্রদীপ বা মোমবাতি (তাপের উৎস)।
- কাঠের বোর্ড (বেস বা ভিত্তি তৈরির জন্য)।
- ছোট পাইপ বা নল (বাষ্প নির্গমনের জন্য)।
তৈরির ধাপসমূহ
১. বয়লার তৈরি: টিনের ক্যানটি ভালো করে পরিষ্কার করে তাতে পানি ভরার জন্য একটি ছোট ছিদ্র করা হয়। ছিদ্রের মুখে একটি সরু মেটাল পাইপ শক্ত করে আটকে দেওয়া হয় যেন বাষ্প কেবল ওই পাইপ দিয়েই বের হতে পারে।
২. টারবাইন ও মোটর সেটআপ: টারবাইনটি এমনভাবে একটি মোটরের সাথে যুক্ত করা হয় যাতে টারবাইন ঘুরলে মোটরের শ্যাফটও ঘোরে।
৩. কাঠামো তৈরি: একটি কাঠের বোর্ডের ওপর বয়লারটিকে উঁচুতে বসানো হয় এবং তার ঠিক নিচেই প্রদীপ রাখার জায়গা করা হয়। টারবাইনটিকে এমনভাবে সেট করা হয় যেন বয়লারের পাইপ থেকে বের হওয়া বাষ্প সরাসরি টারবাইনের পাখায় আঘাত করে।
৪. বিদ্যুৎ সংযোগ: মোটরের তারের সাথে একটি ছোট এলইডি (LED) লাইট যুক্ত করে দেওয়া হয়।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
(Scientific Explanation)
এই প্রজেক্টটি মূলত তিনটি প্রধান ধাপে কাজ করে:
১. তাপ শক্তি থেকে গতিশক্তি (Thermal
to Kinetic Energy):
যখন প্রদীপের সাহায্যে ক্যানের ভেতরের পানিকে উত্তপ্ত করা হয়, তখন পানি ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়। বদ্ধ পাত্রে বাষ্পের আয়তন বেড়ে যায় এবং প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। এই উচ্চচাপের বাষ্প যখন সরু পাইপ দিয়ে তীব্র বেগে বেরিয়ে আসে, তখন এটি সামনে থাকা টারবাইনের পাখায় ধাক্কা দেয়। ফলে টারবাইনটি দ্রুত ঘুরতে শুরু করে।
২. যান্ত্রিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি
(Mechanical to Electrical Energy):
টারবাইনটি একটি ডিসি মোটরের সাথে যুক্ত থাকে। এখানে মোটরটি ডায়নামো বা জেনারেটর হিসেবে কাজ করছে। যখন টারবাইনটি ঘোরে, তখন মোটরের ভেতরে থাকা আর্মেচার বা কয়েল চুম্বকীয় ক্ষেত্রের মধ্যে ঘোরে। এর ফলে ফ্যারাডে-র তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশ
(Faraday's Law of Electromagnetic Induction) নীতি অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
৩. শক্তি রূপান্তর (Energy
Conversion):
পুরো প্রক্রিয়ায় শক্তির রূপান্তরটি এমন:
রাসায়নিক শক্তি (জ্বালানি)
\rightarrow তাপ শক্তি
\rightarrow গতিশক্তি (বাষ্প ও টারবাইন)
\rightarrow বিদ্যুৎ শক্তি (LED লাইট)
সতর্কতা: এটি তৈরির সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন ক্যানটি অতিরিক্ত চাপে ফেটে না যায় এবং আগুনের ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
0 Comments