Model
Video-025
আব্দুল মুসরেফ খাঁনের সহযোগিতায় বিঞ্জান প্রদর্শন মডেল দ্বাদশ শ্রেনী পযর্ন্ত বিঞ্জান শাখায় পাঠরত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য।। এই মডেল আপনি হাতে তৈরী করতে পারবেন।। তবে ইলেকট্রিক ব্যবহারে সাবধান অবলম্বন করবেন।। কোনো কিছু তে আবেগ নয় ধর্য সহকারে করুন হইতো আমার ডেমো দেখে আরো উন্নত মডেল তৈরী করতে পারবেন।।
আন্তরিক শুভেচ্ছা রইল।
তোমাদের সাফল্য কামনা করি।
ভবিষ্যতের ভারত গঠনের কারিগর তোমরা !
অবশ্যই আমাকে ফ্লো করতে ভুলবেন না !
ধন্যবাদ
আব্দুল মুসরেফ খাঁন
মডের বিষয় : অটোমেটিক রোলিং শাটার
এই ভিডিওতে একটি কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি অটোমেটিক রোলিং শাটার দেখা যাচ্ছে। এটি মূলত তড়িৎ চৌম্বকীয় শক্তি এবং যান্ত্রিক গতির সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রজেক্ট। নিচে এর তৈরির প্রক্রিয়া এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
প্রয়োজনীয় উপকরণ
- কার্ডবোর্ড: ফ্রেম এবং শাটার তৈরির জন্য।
- ডিসি গিয়ার মোটর (DC
Gear Motor): এটি শাটারটিকে ওপরে ওঠাতে বা নামাতে সাহায্য করে।
- সুইচ (DPDT Switch): মোটরের ঘূর্ণন দিক
(clockwise/anti-clockwise) পরিবর্তনের জন্য।
- ব্যাটারি: শক্তির উৎস হিসেবে।
- সরু কাঠি বা রোল: শাটার হিসেবে ব্যবহারের জন্য অনেকগুলো ছোট কাগজের রোল।
তৈরির পদ্ধতি
১. শাটার তৈরি: ছোট ছোট কাগজের বা কার্ডবোর্ডের রোল তৈরি করে সেগুলো একটি কাপড়ের বা ফিতার ওপর পাশাপাশি আঠা দিয়ে লাগিয়ে একটি নমনীয় পর্দা বা শাটার তৈরি করা হয়। ২. ফ্রেম তৈরি: কার্ডবোর্ড দিয়ে দুটি সোজা খুঁটি এবং ওপরে একটি ঘূর্ণায়মান দণ্ড (Roller)
বসানো হয়। ৩. মোটর সংযোগ: ঘূর্ণায়মান দণ্ডের এক প্রান্তে ডিসি মোটরটি যুক্ত করা হয়। ৪. সার্কিট: ব্যাটারি, সুইচ এবং মোটরের মধ্যে তার দিয়ে সংযোগ দেওয়া হয় যাতে সুইচের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
এই প্রজেক্টটি মূলত তিনটি প্রধান বিজ্ঞানের নীতির ওপর কাজ করে:
১. তড়িৎ শক্তির যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর: যখন আপনি সুইচটি অন করছেন, তখন ব্যাটারি থেকে তড়িৎ শক্তি (Electrical
Energy) মোটরে যাচ্ছে। মোটরের ভেতরে থাকা চুম্বক এবং কয়েলের ক্রিয়ায় এই শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে
(Mechanical Energy) রূপান্তরিত হচ্ছে, যার ফলে মোটরটি ঘুরতে শুরু করে।
২. গিয়ার মেকানিজম
(Torque): এখানে সম্ভবত একটি গিয়ার মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। গিয়ারের কাজ হলো মোটরের উচ্চ গতি কমিয়ে দিয়ে শক্তি বা বল (Torque)
বাড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে মোটরটি সহজেই ভারী কার্ডবোর্ডের শাটারটিকে টেনে ওপরে তুলতে পারে।
৩. বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পরিবর্তন (Current
Reversal): ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শাটারটি একবার ওপরে উঠছে এবং আবার নিচে নামছে। এটি সম্ভব হচ্ছে DPDT
(Double Pole Double Throw) সুইচের মাধ্যমে। এই সুইচ ব্যাটারি থেকে আসা বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক
(Polarity) বদলে দেয়।
- যখন বিদ্যুৎ একদিকে প্রবাহিত হয়, মোটর একদিকে ঘোরে (শাটার ওঠে)।
- যখন সুইচের মাধ্যমে প্রবাহ উল্টে দেওয়া হয়, মোটর বিপরীত দিকে ঘোরে (শাটার নামে)।
৪. নমনীয়তা ও ঘর্ষণ: শাটারটি অনেকগুলো ছোট রোলে বিভক্ত হওয়ায় এটি সহজেই গোল হয়ে পেঁচিয়ে যেতে পারে। যদি এটি একটি শক্ত বোর্ড হতো, তবে একে গোল করে গোটানো সম্ভব হতো না।
এটি পদার্থবিজ্ঞানের তড়িৎ গতিবিদ্যা এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি চমৎকার প্রাথমিক উদাহরণ।
0 Comments